স্ত্রীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে শারীরিক সম্পর্ক ধর্ষণের সামিল

সময় ট্রিবিউন | ১২ আগষ্ট ২০২১, ১৯:৪৯

প্রতীকী ছবি

স্ত্রীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন বৈবাহিক ধর্ষণের সামিল বলে ঐতিহাসিক রায় দিলেন ভারতের কেরালা রাজ্যের হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এটি বিচ্ছেদের কারণ হিসেবে যথেষ্ট বলেও জানিয়ে দিলেন আদালত।

কেরালা হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের বিচারপতি কওসার এডাপ্পাগাথ এবং বিচারপতি এ মুহাম্মদ মুস্তাক তাদের রায়ে বলেন, স্ত্রীর সম্মতি ছাড়া স্বামীর এই কর্মকাণ্ড বৈবাহিক ধর্ষণের পর্যায়ে পড়ে।
বিবাহবিচ্ছেদের একটি মামলার শুনানিতে কেরালা হাইকোর্ট জানান, স্ত্রীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে যৌন সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করা, তাকে ভোগ্য পণ্য মনে করা অথবা যে কোনও যৌনাচারই বৈবাহিক ধর্ষণের সমতুল্য। কোনও নারীর বিবাহবিচ্ছেদ চাওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট কারণ হতে পারে বলে মনে করে বিচারপতি এ মুহাম্মদ মুস্তাক এবং বিচারপতি কওসার এডাপ্পাগাথের ডিভিশন বেঞ্চ।

১২ বছর ধরে চলা এই বিবাহ বিচ্ছেদের মামলার শুনানিতে নতুন করে বিবাহিত নারীদের অধিকারের সংজ্ঞা স্পষ্ট করে দিল ভারতের বিচারব্যবস্থা। নারীর সম্মানকে অগ্রাধিকার দিয়ে কেরালা হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, 'অন্যান্য সম্পত্তির মতো বিয়ের পর স্ত্রীর উপর অতিরিক্ত কোনও অধিকার জন্মায় না। তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন বা যৌনাচার আসলে ধর্ষণ। এই আচরণ নিষ্ঠুরতার সমান। '

আদালতের মতে, দাম্পত্য সম্পর্কেও ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌনতায় বাধ্য করা ধর্ষণই। তবে এই ধরনের আচরণের কোনও শাস্তি না দেওয়া গেলেও স্ত্রীর উপর স্বামীর নিষ্ঠুর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন হিসেবেই ধরে নেবে আদালত এবং বিবাহবিচ্ছেদের জন্য উপযুক্ত কারণ হিসেবে একে গ্রহণ করা হবে।

১২ বছরের পুরানো এক মামলায় ভারতের কেরালা রাজ্যের হাইকোর্ট এই ঐতিহাসিক রায় দেয়, সেখানে বিবাহ বিচ্ছেদ চেয়েছিলেন স্ত্রী। তাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তার রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী স্বামী। শুনানি চলাকালীন বিচারপতিরা লক্ষ্য করেন, বিয়েতে পাওয়া যৌতুকের মতোই স্ত্রী যেন স্বামীর অধিকারে আসা আরেকটি সম্পত্তি। শুনানি চলাকালীন উঠে আসে জোর খাটিয়ে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের কথাও।

এরপর স্বামীর আবেদন খারিজের আবেদনকে গুরুত্ব না দিয়ে দুই বিচারপতির বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, নারীর সম্মানকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। আইন বৈবাহিক ধর্ষণকে এখনও অপরাধের স্বীকৃতি না দিলেও, তা নির্যাতন হিসেবে দেখে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন মঞ্জুর করা যেতেই পারে।



আপনার মূল্যবান মতামত দিন:


  1. বাংলাদেশ আজ কোন পথে : মব সন্ত্রাস, অর্থনৈতিক ধস এবং শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের অপরিহার্যতা
    বাংলাদেশ আজ কোন পথে : মব সন্ত্রাস, অর্থনৈতিক ধস এবং শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের অপরিহার্যতা
  1. যুদ্ধের প্রভাবে দ্রব্যমূল্য বাড়তে পারে ২৩ শতাংশ : বিশ্বব্যাংক
    যুদ্ধের প্রভাবে দ্রব্যমূল্য বাড়তে পারে ২৩ শতাংশ : বিশ্বব্যাংক
  1. ছয় মাসের মধ্যে তেলের দাম সর্বোচ্চ
    ছয় মাসের মধ্যে তেলের দাম সর্বোচ্চ
  1. ঢাকা থেকে সৌদিগামী ১০০ ফ্লাইট বাতিল : ভোগান্তিতে প্রায় ১৬ হাজার যাত্রী
    ঢাকা থেকে সৌদিগামী ১০০ ফ্লাইট বাতিল : ভোগান্তিতে প্রায় ১৬ হাজার যাত্রী
  1. দেশ ধ্বংসের কারিগর জুলাই আন্দোলন : শিল্পীদের ভূমিকা ও তালিকা
    দেশ ধ্বংসের কারিগর জুলাই আন্দোলন : শিল্পীদের ভূমিকা ও তালিকা
  1. ব্যাংকিং ব্যবস্থার মোট তহবিলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অর্থ নেই : গভর্নর
    ব্যাংকিং ব্যবস্থার মোট তহবিলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অর্থ নেই : গভর্নর
  1. নেত্রী মুক্তি পাক, সেদিন ফুল নেব
    নেত্রী মুক্তি পাক, সেদিন ফুল নেব
  1. ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে নতুন চার্জ, বাড়বে ব্যয়
    ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে নতুন চার্জ, বাড়বে ব্যয়
  1. সুনামগঞ্জে ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্য পূরণ না হওয়ার শঙ্কা
    সুনামগঞ্জে ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্য পূরণ না হওয়ার শঙ্কা
  1. ঢাকায় নতুন আরও চার থানা চালুর পরিকল্পনা পুলিশের
    ঢাকায় নতুন আরও চার থানা চালুর পরিকল্পনা পুলিশের
জনপ্রিয় খবর