পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল মেনে না নিয়ে আইনি লড়াইয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২৬ সালের এই নির্বাচনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন বলে ইন্ডিয়া টুডেকে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
বুধবার কলকাতার কালীঘাটে নবনির্বাচিত দলীয় বিধায়কদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মমতা এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। বৈঠকে তিনি নির্বাচনে জয়ী বিজেপি এবং ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কারচুপির অভিযোগ তোলেন। পাশাপাশি নির্বাচনি ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ করার পাশাপাশি পুনরায় আইনি পেশায় ফেরার ইচ্ছার কথাও জানান তিনি।
এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিদায়ী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যও। তিনিও নির্বাচনে পরাজয়ের পর আদালতের মাধ্যমে আইনি লড়াইয়ে নামার ঘোষণা দেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠকে বলেন, রাজ্যের নির্বাচনে ধাক্কা এলেও জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’কে শক্তিশালী করার লক্ষ্য থেকে তিনি সরে আসছেন না।
নির্বাচনে পরাজয়ের পরও মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো ইচ্ছা নেই বলে স্পষ্ট করেছেন তিনি। তার ভাষায়, ‘ছিনতাই হওয়া ম্যান্ডেটের’ বিরুদ্ধে অবস্থান জানানোর এটি একটি প্রতীকী প্রতিবাদ।
একই অবস্থান ব্যক্ত করেছেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দলীয় নেতাদের উদ্দেশে বলেন, পদত্যাগ না করে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়াই হবে কার্যকর প্রতিক্রিয়া। ডায়মন্ড হারবারের এই সংসদ সদস্য আরও জানান, ভোট-পরবর্তী সহিংসতার ঘটনাগুলো নিয়েও দল আইনি পদক্ষেপ নেবে।
বৈঠক শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার চাইলে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করতে পারে, তবে সে সিদ্ধান্ত যেন আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত করা হয়।
আগামী ৯ মে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে নতুন বিজেপি সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এদিন তৃণমূল কংগ্রেসের সব কার্যালয়ে রবীন্দ্রসংগীত বাজানোর নির্দেশ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, যা দলটির পক্ষ থেকে প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এছাড়া নির্বাচনে জয়ী দলীয় প্রার্থীদের নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করে তৃণমূল পর্যায়ের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
আপনার মূল্যবান মতামত দিন: